ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলা বাংলা একাডেমিতে Logo ভয়াবহ মন্দার ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) Logo সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা Logo যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে’ বৈঠকে বসতে পারে: ডনাল্ড ট্রাম্প Logo চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহ, প্রশ্নের তোপে হাসনাত আব্দুল্লাহ Logo পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে বিনামূল্যে ৪ (চার) মাসের প্রশিক্ষণ কোর্সের ভর্তি নিচ্ছে বিআরটিসি Logo পয়লা বৈশাখে কুমিল্লার ‘বাঁশির গ্রামে’ ব্যস্ত বাঁশি তৈরির কারিগর Logo কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের চিরবিদায় Logo বিনামূল্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, গাজীপুর

চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহ, প্রশ্নের তোপে হাসনাত আব্দুল্লাহ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরের কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। খবর পেয়ে এ সময় মনজুর আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন একদল লোক, যাঁরা নিজেদের জুলাই যোদ্ধা বলে পরিচয় দেন।

সাক্ষাৎ শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ ওই বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে নানা প্রশ্ন করেন জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মনজুর আলমের বাসার সামনে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় একজন হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কাজ কী? আপনি একজন জুলাই যোদ্ধা। সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন। তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন?’

এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহকে হাত নাড়িয়ে তাঁদের শান্ত করতে দেখা যায়। পরে একজন এসে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সরে যেতে বলেন।

এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

জানতে চাইলে সাবেক মেয়র মনজুর আলম সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে এসেছিলেন। পরে উনি আমার বাসায় বেড়াতে আসেন। বাসায় তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।’

এনসিপির প্রার্থী হয়ে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনজুর আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর বাসায় হাসনাত আব্দুল্লাহর যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মনজুর আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক কোনো বিষয়েই আমাদের মধ্যে আলাপ হয়নি।’

বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে তাঁরা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উভয় নেতাই আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’

মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। ‘রাজনৈতিক গুরু’ হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। মেয়র হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হয়েছিলেন।

২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও বিএনপির সমর্থনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। একপর্যায়ে নির্বাচনের দিন সকালে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মনজুর আলম। এর পর থেকে তাঁকে আর বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে দেখা যায়নি তাঁকে।

এর মধ্যে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের একটি আসনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন মনজুর আলম। ওই বছর তিনি আর নির্বাচন করেননি। ২০২০ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন মনজুর আলম। তবে সেবারও তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

বিএনপির রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার পর দুই দফায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও দলটির কোনো পদে ছিলেন না মনজুর আলম।

সূত্র : প্রথম আলো

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহ, প্রশ্নের তোপে হাসনাত আব্দুল্লাহ

আপডেট সময় : ০৫:৪১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নগরের কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। খবর পেয়ে এ সময় মনজুর আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন একদল লোক, যাঁরা নিজেদের জুলাই যোদ্ধা বলে পরিচয় দেন।

সাক্ষাৎ শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ ওই বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাঁকে নানা প্রশ্ন করেন জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, মনজুর আলমের বাসার সামনে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় একজন হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কাজ কী? আপনি একজন জুলাই যোদ্ধা। সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন। তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন?’

এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহকে হাত নাড়িয়ে তাঁদের শান্ত করতে দেখা যায়। পরে একজন এসে বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের সরে যেতে বলেন।

এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

জানতে চাইলে সাবেক মেয়র মনজুর আলম সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামে এসেছিলেন। পরে উনি আমার বাসায় বেড়াতে আসেন। বাসায় তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। এর বেশি কিছু নয়।’

এনসিপির প্রার্থী হয়ে আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনজুর আলম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। এর মধ্যে তাঁর বাসায় হাসনাত আব্দুল্লাহর যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে মনজুর আলম বলেন, ‘রাজনৈতিক কোনো বিষয়েই আমাদের মধ্যে আলাপ হয়নি।’

বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে তাঁরা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উভয় নেতাই আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’

মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন। ‘রাজনৈতিক গুরু’ হিসেবে পরিচিত সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। মেয়র হওয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাও হয়েছিলেন।

২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও বিএনপির সমর্থনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। একপর্যায়ে নির্বাচনের দিন সকালে কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মনজুর আলম। এর পর থেকে তাঁকে আর বিএনপির রাজনৈতিক কার্যক্রমে দেখা যায়নি তাঁকে।

এর মধ্যে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের একটি আসনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন মনজুর আলম। ওই বছর তিনি আর নির্বাচন করেননি। ২০২০ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন মনজুর আলম। তবে সেবারও তাঁকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

বিএনপির রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার পর দুই দফায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইলেও দলটির কোনো পদে ছিলেন না মনজুর আলম।

সূত্র : প্রথম আলো