ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলা বাংলা একাডেমিতে Logo ভয়াবহ মন্দার ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) Logo সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা Logo যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে’ বৈঠকে বসতে পারে: ডনাল্ড ট্রাম্প Logo চট্টগ্রামে মনজুর আলমের বাসায় হাসনাত আবদুল্লাহ, প্রশ্নের তোপে হাসনাত আব্দুল্লাহ Logo পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে বিনামূল্যে ৪ (চার) মাসের প্রশিক্ষণ কোর্সের ভর্তি নিচ্ছে বিআরটিসি Logo পয়লা বৈশাখে কুমিল্লার ‘বাঁশির গ্রামে’ ব্যস্ত বাঁশি তৈরির কারিগর Logo কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের চিরবিদায় Logo বিনামূল্যে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, গাজীপুর

পয়লা বৈশাখে কুমিল্লার ‘বাঁশির গ্রামে’ ব্যস্ত বাঁশি তৈরির কারিগর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গ্রামে ঢুকতেই ভেসে আসে বাঁশির সুর—যেন বাতাসে মিশে আছে এক প্রাচীন কারুশিল্পের গল্প। দুই শতকের ঐতিহ্য ধারণ করে বংশপরম্পরায় বাঁশি তৈরি করেন গ্রামের বাসিন্দারা। ছোট ছোট মুলি বাঁশ, আগুনের ছেঁকা আর নিপুণ হাতে তৈরি সেই বাঁশি শুধু দেশের সীমানায় আটকে নেই, ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। জীবিকা, শিল্প আর আবেগ—সব মিলিয়ে গ্রামটি পরিচিতি পেয়েছে ‘বাঁশির গ্রাম’ হিসেবে।

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দী গ্রামের বাসিন্দারা বংশপরম্পরায় পূর্বপুরুষের এই সৃষ্টিশীল কাজ করছেন। শ্রীমদ্দী গ্রামের অন্তত ৪০টি পরিবার ১৪ ধরনের বাঁশি তৈরির কাজে জড়িত। গ্রামের নারী-পুরুষ, এমনকি শিশুরা এই কাজ করে। পয়লা বৈশাখ সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বাঁশি তৈরির কারিগরেরা। বাঁশি কিনতে গ্রামে ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা।

২০০ বছরের ঐতিহ্য বাঁশির গ্রাম

প্রবীণ বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় ২০০ বছর আগে শ্রীমদ্দী গ্রামে বাঁশি তৈরির প্রচলন শুরু হয়। গ্রামের কোকিল দাস বৈরাগী ও দীনবন্ধু দাস প্রথম বাঁশি তৈরির কাজটি শুরু করেন। তাঁদের ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে যাতায়াত ছিল। তাঁরা সেখান থেকে বাঁশি তৈরির প্রক্রিয়া শিখে এসে এই কাজ শুরু করেন। শুরুর দিকে অল্পসংখ্যক বাঁশি তৈরি করে নিজেরাই বিভিন্ন স্থানে ফেরি করে বিক্রি করতেন। নিজেরাও চমৎকার সুরে বাঁশি বাজাতে পারতেন। তাঁদের দেখে গ্রামের অন্যরা এ কাজ শেখেন। পরে গ্রামের বাসিন্দারা বংশপরম্পরায় বাঁশি তৈরি করে আসছেন।

শ্রীমদ্দী গ্রামের যতীন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস (৭০) ও তাঁর স্ত্রী রীনা রানী বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে বাঁশি তৈরি করছেন। ছোটবেলায় বাবা ভগবান বিশ্বাসের কাছ থেকে তিনি এই কাজ শিখেছেন। যতীন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবা তাঁর দাদা হরিচরণ বিশ্বাসের কাছ থেকে বাঁশি তৈরির কাজ শিখেছেন। তাঁর (যতীন্দ্র) কাছ থেকে তাঁর তিন মেয়ে শিখেছেন। তাঁরা এখন স্নাতকে পড়ছেন। লেখাপড়া শেষ করে প্রয়োজনে তাঁরা এই কাজ করবেন। বর্তমানে বাঁশি তৈরির আয় দিয়েই তাঁর সংসার চলছে। তিনি বলেন, আগে বাঁশির বাজার অনেক ভালো ছিল। চৈত্র মাস এলেই ঢাকার চকবাজারের ব্যবসায়ীরা এসে বাঁশি কিনে নিয়ে যেতেন। এখন চাহিদা না বাড়লেও কদর তেমন কমেনি।

বাঁশি তৈরির পদ্ধতি

একটি বাঁশি তৈরি করতে ১৩ থেকে ১৪টি ধাপ থাকে। মূলত মুলি বাঁশ দিয়ে এটি তৈরি হয়। বাঁশিগুলো লম্বা হয় ১৩ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত। প্রথমে মুলি কেটে শুকাতে হয়। পরে বাঁশের ছাঁচ (ওপরের আবরণ) চেঁচে ফেলা হয়। তবে আড়বাঁশির ক্ষেত্রে তা করা হয় না। ছিদ্র করার জন্য দাগ কাটা হয়।

আড়বাঁশির ক্ষেত্রে কাদামাটি দিয়ে বিভিন্ন নকশা তৈরি করে আগুন দিয়ে ছেঁকা হয়। এতে বাঁশির গা থেকে মাটি শুকিয়ে পড়ে যায় এবং নকশা ফুটে ওঠে। বাঁশিতে ছিদ্র করার জন্য বিশেষ ধরনের চোখা শিক ব্যবহার করা হয়। পরে সিরিশ দিয়ে ঘষে মসৃণ করে নিয়ে রং দিয়ে নকশা করা হয়। এভাবেই তৈরি হয় বাঁশি। এরপর প্যাকেট করে বাজারজাত করা হয়।

বাঁশির প্রকারভেদ

নানা ধরনের বাঁশি তৈরি করেন শ্রীমদ্দী গ্রামের বাসিন্দারা। বাঁশির কারিগরেরা জানান, এখানে আড়বাঁশি, বেলুন বাঁশি, মুখ বাঁশি, সানাই বাঁশি, কেলেনেট বাঁশি, পাতা মুড়ালি বাঁশি, ছোট নাগ বাঁশি, বড় নাগ বাঁশি, পাখি বাঁশি, মোহন বাঁশি, তোতা বাঁশি, টিপেরা ফুলট বাঁশি, থ্রিপিস বাঁশি, টেলি বাঁশি তৈরি হয়। তাঁদের তৈরি করা বাঁশি দেশের বাজার ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, স্পেন, ইতালিসহ বেশ কয়েকটি দেশে যায়।

বাঁশি বিক্রয়ের বাজার

শ্রীমদ্দী গ্রামে তৈরি করা বাঁশি সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। ঢাকার চকবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে বাঁশি কিনে নিয়ে যান। পাশাপাশি দেশের বাইরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও যায়। বাঁশির ধরনভেদে দামও ভিন্ন হয়। খুচরা পর্যায়ে একেকটি বাঁশি ১০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। সাধারণত বৈশাখী মেলা সামনে রেখে চৈত্র মাসে ব্যবসায়ীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়।

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ত্রিয়শ্রী গ্রামের ব্যবসায়ী রাজু মিয়া বাঁশি কিনতে শ্রীমদ্দী গ্রামে এসেছেন। তিনি বলেন, ৪৩ বছর ধরে তিনি শ্রীমদ্দী গ্রাম থেকে বাঁশি কিনে বিক্রি করছেন। যুবকেরাই আসল গ্রাহক। বাচ্চারাও কেনে। ঢাকায় তাঁর দোকান আছে। সারা বছর কিনে নিয়ে দোকানে বিক্রি করেন। বৈশাখী মেলার জন্য টানা ছয় দিন তিনি শ্রীমদ্দী গ্রামে অবস্থান করে বাঁশি কিনছেন।

বাঁশির কারিগর রতন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দেশি-বিদেশি প্লাস্টিকের নানা খেলনা বাজারে থাকায় বাঁশির কদর আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। এরপরও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটসহ সারা দেশের ব্যবসায়ীরা বাঁশি কিনে নিয়ে যান। বিভিন্ন মেলা ও ওরসে তাঁদের তৈরি বাঁশি বেশি বিক্রি হয়। বিদেশেও যাচ্ছে। বাঁশির গুণগত মান বাড়িয়ে বিদেশে পাঠাতে ব্যাংক থেকে ঋণসুবিধাসহ সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দেশি ঐতিহ্য ধরে রাখতে শ্রীমদ্দী গ্রামের বাসিন্দাদের বাঁশি তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া উচিত। তাঁরা এলে ঋণের বিষয়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পয়লা বৈশাখে কুমিল্লার ‘বাঁশির গ্রামে’ ব্যস্ত বাঁশি তৈরির কারিগর

আপডেট সময় : ০৪:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

গ্রামে ঢুকতেই ভেসে আসে বাঁশির সুর—যেন বাতাসে মিশে আছে এক প্রাচীন কারুশিল্পের গল্প। দুই শতকের ঐতিহ্য ধারণ করে বংশপরম্পরায় বাঁশি তৈরি করেন গ্রামের বাসিন্দারা। ছোট ছোট মুলি বাঁশ, আগুনের ছেঁকা আর নিপুণ হাতে তৈরি সেই বাঁশি শুধু দেশের সীমানায় আটকে নেই, ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। জীবিকা, শিল্প আর আবেগ—সব মিলিয়ে গ্রামটি পরিচিতি পেয়েছে ‘বাঁশির গ্রাম’ হিসেবে।

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দী গ্রামের বাসিন্দারা বংশপরম্পরায় পূর্বপুরুষের এই সৃষ্টিশীল কাজ করছেন। শ্রীমদ্দী গ্রামের অন্তত ৪০টি পরিবার ১৪ ধরনের বাঁশি তৈরির কাজে জড়িত। গ্রামের নারী-পুরুষ, এমনকি শিশুরা এই কাজ করে। পয়লা বৈশাখ সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বাঁশি তৈরির কারিগরেরা। বাঁশি কিনতে গ্রামে ভিড় করছেন দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা।

২০০ বছরের ঐতিহ্য বাঁশির গ্রাম

প্রবীণ বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় ২০০ বছর আগে শ্রীমদ্দী গ্রামে বাঁশি তৈরির প্রচলন শুরু হয়। গ্রামের কোকিল দাস বৈরাগী ও দীনবন্ধু দাস প্রথম বাঁশি তৈরির কাজটি শুরু করেন। তাঁদের ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে যাতায়াত ছিল। তাঁরা সেখান থেকে বাঁশি তৈরির প্রক্রিয়া শিখে এসে এই কাজ শুরু করেন। শুরুর দিকে অল্পসংখ্যক বাঁশি তৈরি করে নিজেরাই বিভিন্ন স্থানে ফেরি করে বিক্রি করতেন। নিজেরাও চমৎকার সুরে বাঁশি বাজাতে পারতেন। তাঁদের দেখে গ্রামের অন্যরা এ কাজ শেখেন। পরে গ্রামের বাসিন্দারা বংশপরম্পরায় বাঁশি তৈরি করে আসছেন।

শ্রীমদ্দী গ্রামের যতীন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস (৭০) ও তাঁর স্ত্রী রীনা রানী বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে বাঁশি তৈরি করছেন। ছোটবেলায় বাবা ভগবান বিশ্বাসের কাছ থেকে তিনি এই কাজ শিখেছেন। যতীন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবা তাঁর দাদা হরিচরণ বিশ্বাসের কাছ থেকে বাঁশি তৈরির কাজ শিখেছেন। তাঁর (যতীন্দ্র) কাছ থেকে তাঁর তিন মেয়ে শিখেছেন। তাঁরা এখন স্নাতকে পড়ছেন। লেখাপড়া শেষ করে প্রয়োজনে তাঁরা এই কাজ করবেন। বর্তমানে বাঁশি তৈরির আয় দিয়েই তাঁর সংসার চলছে। তিনি বলেন, আগে বাঁশির বাজার অনেক ভালো ছিল। চৈত্র মাস এলেই ঢাকার চকবাজারের ব্যবসায়ীরা এসে বাঁশি কিনে নিয়ে যেতেন। এখন চাহিদা না বাড়লেও কদর তেমন কমেনি।

বাঁশি তৈরির পদ্ধতি

একটি বাঁশি তৈরি করতে ১৩ থেকে ১৪টি ধাপ থাকে। মূলত মুলি বাঁশ দিয়ে এটি তৈরি হয়। বাঁশিগুলো লম্বা হয় ১৩ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত। প্রথমে মুলি কেটে শুকাতে হয়। পরে বাঁশের ছাঁচ (ওপরের আবরণ) চেঁচে ফেলা হয়। তবে আড়বাঁশির ক্ষেত্রে তা করা হয় না। ছিদ্র করার জন্য দাগ কাটা হয়।

আড়বাঁশির ক্ষেত্রে কাদামাটি দিয়ে বিভিন্ন নকশা তৈরি করে আগুন দিয়ে ছেঁকা হয়। এতে বাঁশির গা থেকে মাটি শুকিয়ে পড়ে যায় এবং নকশা ফুটে ওঠে। বাঁশিতে ছিদ্র করার জন্য বিশেষ ধরনের চোখা শিক ব্যবহার করা হয়। পরে সিরিশ দিয়ে ঘষে মসৃণ করে নিয়ে রং দিয়ে নকশা করা হয়। এভাবেই তৈরি হয় বাঁশি। এরপর প্যাকেট করে বাজারজাত করা হয়।

বাঁশির প্রকারভেদ

নানা ধরনের বাঁশি তৈরি করেন শ্রীমদ্দী গ্রামের বাসিন্দারা। বাঁশির কারিগরেরা জানান, এখানে আড়বাঁশি, বেলুন বাঁশি, মুখ বাঁশি, সানাই বাঁশি, কেলেনেট বাঁশি, পাতা মুড়ালি বাঁশি, ছোট নাগ বাঁশি, বড় নাগ বাঁশি, পাখি বাঁশি, মোহন বাঁশি, তোতা বাঁশি, টিপেরা ফুলট বাঁশি, থ্রিপিস বাঁশি, টেলি বাঁশি তৈরি হয়। তাঁদের তৈরি করা বাঁশি দেশের বাজার ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা, স্পেন, ইতালিসহ বেশ কয়েকটি দেশে যায়।

বাঁশি বিক্রয়ের বাজার

শ্রীমদ্দী গ্রামে তৈরি করা বাঁশি সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। ঢাকার চকবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে বাঁশি কিনে নিয়ে যান। পাশাপাশি দেশের বাইরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও যায়। বাঁশির ধরনভেদে দামও ভিন্ন হয়। খুচরা পর্যায়ে একেকটি বাঁশি ১০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। সাধারণত বৈশাখী মেলা সামনে রেখে চৈত্র মাসে ব্যবসায়ীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়।

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ত্রিয়শ্রী গ্রামের ব্যবসায়ী রাজু মিয়া বাঁশি কিনতে শ্রীমদ্দী গ্রামে এসেছেন। তিনি বলেন, ৪৩ বছর ধরে তিনি শ্রীমদ্দী গ্রাম থেকে বাঁশি কিনে বিক্রি করছেন। যুবকেরাই আসল গ্রাহক। বাচ্চারাও কেনে। ঢাকায় তাঁর দোকান আছে। সারা বছর কিনে নিয়ে দোকানে বিক্রি করেন। বৈশাখী মেলার জন্য টানা ছয় দিন তিনি শ্রীমদ্দী গ্রামে অবস্থান করে বাঁশি কিনছেন।

বাঁশির কারিগর রতন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দেশি-বিদেশি প্লাস্টিকের নানা খেলনা বাজারে থাকায় বাঁশির কদর আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। এরপরও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেটসহ সারা দেশের ব্যবসায়ীরা বাঁশি কিনে নিয়ে যান। বিভিন্ন মেলা ও ওরসে তাঁদের তৈরি বাঁশি বেশি বিক্রি হয়। বিদেশেও যাচ্ছে। বাঁশির গুণগত মান বাড়িয়ে বিদেশে পাঠাতে ব্যাংক থেকে ঋণসুবিধাসহ সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, দেশি ঐতিহ্য ধরে রাখতে শ্রীমদ্দী গ্রামের বাসিন্দাদের বাঁশি তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া উচিত। তাঁরা এলে ঋণের বিষয়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সে ব্যাপারে আলোচনা করা হবে।